এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেয়ার সময় মন্ত্রী এ কথা জানান। ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ কর্মশালার আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে এনজিও এগিয়ে এলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছি, আমাদের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। ১০ হাজার মেগাওয়াট করলে আমদানিনির্ভর এনার্জির প্রয়োজন কমবে।’
এতে উদ্বৃত্ত টাকা অন্য উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বর্তমানে ৭৯৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
গ্রামের বাড়ির ছাদে গুচ্ছভিত্তিক সৌরপ্যানেল স্থাপন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি, সৌরচালিত সেচ ও বায়োগ্যাস প্রকল্পকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে এনজিওর বড় ভূমিকা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এনজিওগুলো গুচ্ছভিত্তিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের অর্থও ফিরে আসবে।
এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের সংকট হবে না মন্তব্য করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।’
কৃষি সেচের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে গভীর নলকূপের মালিকরা কৃষকদের কাছে সেচের পানি বিক্রি করেন, একইভাবে সৌরচালিত সেচপাম্পও লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিতে কর-শুল্ক সুবিধার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পেরও সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, গত ১৭ বছরে সমুদ্রসীমা অর্জন উদ্যাপন করা হলেও সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগানো যায়নি। প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে, আর বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য সরকার এরই মধ্যে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে।
বিদেশী অনুদানের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।’
এনজিও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চাইলে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।